বাংলাদেশে অফিস ও অবকাঠামো স্থাপনে মেটাকে বিটিআরসির আহ্বান

বাংলাদেশে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অবকাঠামো স্থাপনে মেটাকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। একই সঙ্গে দেশে স্থানীয় অফিস ও কনটেন্ট ডেলিভারী নেটওয়ার্ক  (সিডিএন)/এজ নোড স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ই আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের দপ্তরে মেটার একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) মেটা প্রতিনিধিদের কাছে এসব আহ্বান জানান।

বৈঠকে মেটার দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়ার পাবলিক পলিসির পরিচালক ইয়ুন তিং চায়, বাংলাদেশ ও নেপালের পাবলিক পলিসি প্রধান রুজান সারওয়ার এবং এপিএসি-এর লিড এজ স্ট্র্যাটেজি ম্যাট জ্যানসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে মেটার কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মেটা কর্তৃপক্ষ বিটিআরসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়। উভয় পক্ষ এ বিষয়ে একমত হয়।

বিটিআরসি জানায়, দেশের বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। এ কারণে বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে মেটাকে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় অফিস স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনার অনুরোধ করা হয়।

বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মের বিপুল ব্যবহারকারী থাকায় স্থানীয়ভাবে সিডিএন বা এজ নোড স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছে বিটিআরসি। এর ফলে বাংলাদেশে মেটার সেবার ডেটা সরবরাহের সক্ষমতা বাড়তে পারে। ব্যবহারকারীরা উন্নত কোয়ালিটি অফ সার্ভিস দ্রুতগতির এবং আরও নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে আগের ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের কয়েকটি বিধান স্থানীয় সিডিএন বা এজ নোড স্থাপনে দাপ্তরিক ও আইনগত সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছিল। তবে বর্তমান সরকারের অনুমোদিত ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই বলে তারা জানিয়েছে।

এ কারণে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় স্থানীয় অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে মেটা এখন আরও দ্রুত ও উদ্যোগী হয়ে কাজ করবে বলে প্রতিনিধি দলটি জানায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। বিটিআরসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা মেটা প্রতিনিধিদের জানানো হয়।

এ ছাড়া ফেসবুকসহ মেটার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড, বেটিং ও জুয়ার প্রচারণা ঠেকাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও অপসারণের জন্য কার্যকর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধেও মেটার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে মেটার পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাপী কর্মীসংখ্যা পুনর্গঠন ও জনবল কমানোর কারণে কিছু কার্যক্রমে সাময়িক ধীরগতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে বিটিআরসিকে আশ্বস্ত করেন মেটা প্রতিনিধিরা।

মেটার পাবলিক পলিসি প্রধান রুজান সারওয়ার বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মতামতকে স্বাগত জানান। তিনি বিটিআরসির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে স্থানীয় অফিস ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে কারিগরি ও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিক, সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ উপস্থিত ছিলেন। সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম তাইফুর রহমানও বৈঠকে ছিলেন।

বিটিআরসির কর্মকর্তাদের বর্তমান তালিকাতেও আবু বকর ছিদ্দিককে ভাইস-চেয়ারম্যান এবং শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন ও শফিউল আজম পারভেজকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকের আলোচনায় মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—বাংলাদেশে মেটার ব্যবসা ও উপস্থিতি বাড়ানো, স্থানীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো স্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর ও অপরাধমূলক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ। এসব বিষয়ে মেটা ও বিটিআরসির সমন্বয় আরও বাড়লে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় ডিজিটাল অবকাঠামোতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *