বাংলাদেশে এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণে জাপানের ১২ শিক্ষক

৫ আগস্ট বাংলাদেশে শুরু হয়েছে জাইকার ‘ওভারসিজ ট্রেনিং ফর টিচার্স’ কর্মসূচি। এতে জাপানের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন।

জাপানের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষকের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে এক সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) আয়োজিত ‘ওভারসিজ ট্রেনিং ফর টিচার্স’ কর্মসূচিটি ৫ আগস্ট বাংলাদেশে শুরু হয়।

দীর্ঘ যাত্রা শেষে বাংলাদেশে এসে শিক্ষকরা প্রথম দিনেই দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিভিন্ন দিক কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। নতুন পরিবেশ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

প্রতিনিধিদলের একজন শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশে এসে জাপানের সঙ্গে এ দেশের বিভিন্ন পার্থক্য সরাসরি দেখার সুযোগ হচ্ছে। এরই মধ্যে তারা অনেক ছবি তুলেছেন। বাংলাদেশের ইতিবাচক দিকগুলো জাপানের মানুষের সঙ্গে এবং বিশেষ করে নিজেদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান তারা।

ওই শিক্ষক বলেন, মাত্র এক দিনের অভিজ্ঞতাতেই তারা অনেক মূল্যবান বিষয় জানতে পেরেছেন। এসব অভিজ্ঞতা জাপানে ফিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এক সপ্তাহের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার পাশাপাশি বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। বাংলাদেশের বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার মাধ্যমে দেশটির শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও বিস্তৃত হবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।

প্রশিক্ষণ শেষে জাপানে ফিরে শিক্ষকরা বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা নিজেদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। এর ফলে জাপানের শিশু-কিশোরদের সামনে বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন সম্পর্কে জানার একটি বাস্তবভিত্তিক সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষা বিনিময়ের পাশাপাশি এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষের বাইরে অন্য দেশের সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ শিশুদের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

জাপানের ১২ শিক্ষকের বাংলাদেশ সফর তাই শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সফরের অভিজ্ঞতা তারা নিজ নিজ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিলে বাংলাদেশ ও জাপানের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একে অপরের দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগও বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *