লিবিয়ায় অপহৃত ৩১ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় দেশটির জননিরাপত্তা ও নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ।
সম্প্রতি লিবিয়ার জননিরাপত্তা ও নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহ আল-তরাবলুসির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কৃতজ্ঞতা জানান। বৈঠকে লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) এবং লিবিয়ার জননিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহ আল-তরাবলুসি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। তিনি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে সম্প্রতি অপহৃত ৩১ বাংলাদেশিকে উদ্ধারে জননিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট লিবীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।
দুই পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি অংশ বৈধ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকির মুখে পড়েন। এ কারণে তাদের নিরাপত্তা, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক ৩১ বাংলাদেশির উদ্ধারের ঘটনায়ও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।