‘জুলাই সবার’—আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাহিদ ইসলামের বার্তা

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের উদ্দেশে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, এমপি। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো একক রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় অসংখ্য সাধারণ মানুষ নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন, যাদের অনেকের সঙ্গেই তার ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনের সময় কেউ আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন, কেউ চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মুক্তির দাবিতে প্রচারণা চালিয়েছেন। এসব মানুষের অবদানকে তিনি জুলাই আন্দোলনের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের একটি বড় অংশ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার ভাষায়, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা, ‘আই হেট পলিটিক্স’ মানসিকতার মানুষ, তরুণ-তরুণী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক—সবাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া আন্দোলনের সফলতা সম্ভব হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে আন্দোলনের পর সেই সাধারণ মানুষদের অনেকেই জনপরিসর থেকে সরে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, বর্তমানে আন্দোলনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবদান হিসেবে ভাগ করে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, অথচ আন্দোলনের প্রকৃত মালিক ছিলেন সাধারণ মানুষ।

এই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গত দুই দিনে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানোর উদ্যোগ নেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। অনেকেই সেই বার্তা পেয়েছেন, তবে কারও বার্তা স্প্যাম ফোল্ডারে চলে গেছে বা বার্তা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ থাকায় সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলেও জানান।

তিনি বলেন, দেশের সব আন্দোলন-সমর্থক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এজন্য যারা তার বার্তা পাননি, তাদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অনেক কিছুই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি স্বীকার করেন, আন্দোলনের পর সব লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি এবং এ ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাধা কাজ করেছে। তবে নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সবশেষে তিনি দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে এবং দেশের যেকোনো প্রয়োজনের মুহূর্তে আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *