জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি ও উপকূলীয় প্লাবনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় উন্নত জলবায়ু পূর্বাভাস ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে যৌথ উদ্যোগ জোরদার করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)।
‘আবহাওয়া ও জলবায়ু সেবার সক্ষমতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি “বাংলাদেশে কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জলবায়ু পূর্বাভাস ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং” শীর্ষক একটি উন্মুক্ত সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রযুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং তা কীভাবে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, উচ্চ-রেজোলিউশনের জলবায়ু পূর্বাভাস এবং জলোচ্ছ্বাসজনিত প্লাবন মডেলিং প্রযুক্তি বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়নকে আরও নির্ভুল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপানের জলবায়ু ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পূর্বাভাস, জলোচ্ছ্বাসের সিমুলেশন, উপকূলীয় প্লাবন পূর্বাভাস এবং প্রভাবভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের সমন্বয় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে নীতি নির্ধারণ ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী ও নির্ভুল পূর্বাভাস কেবল দুর্যোগের আগে মানুষকে সতর্ক করাই নয়, বরং কৃষি, পানি সম্পদ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকল্পনাতেও গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
সেমিনারে জাইকা বাংলাদেশ-এর চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে জাইকা দীর্ঘমেয়াদে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তাঁর ভাষায়, নির্ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস, কার্যকর ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বিনিয়োগ একটি অধিক জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তি উন্নয়ন নয়, সেই প্রযুক্তিকে মানুষের সুরক্ষা ও নীতিনির্ধারণে কার্যকরভাবে ব্যবহার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জাইকা ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি আরও নিরাপদ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।