জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত আরটেক জেনারেল এক্সিবিশন ২০২৬-এ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত ও সৃজনশীলতার সমন্বিত শিক্ষা বা স্টিম (এসটিইএএম) শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রদর্শনীতে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী এই আয়োজনের জন্য জাপানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর্টেক ও অক্টোব্রেইন-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে ৬ই আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক হামলায় নিহতদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বক্তব্যে ববি হাজ্জাজ জাপানের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ভয়াবহ ধ্বংসের পরও দেশটি উদ্ভাবন, শিক্ষা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জাপানের এই উন্নয়নের যাত্রা থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্টিম শিক্ষা শুধু বই মুখস্থ করার পদ্ধতি নয়। এর লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে প্রশ্ন করার অভ্যাস, বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরি করা।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় এই পদ্ধতি চালু ও সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গণিত ল্যাব, বিজ্ঞান ক্লাব, প্রাথমিক পর্যায়ে রোবোটিকস শিক্ষা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, শিশুদের সহজ, সাশ্রয়ী এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে তারা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করবে না, বরং বাস্তব জীবনের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান খুঁজে বের করার দক্ষতা অর্জন করবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না; প্রযুক্তি বোঝা, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “যে দেশ শুধু প্রযুক্তি ক্রয় করে, সে দেশ সবসময় নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু যে দেশের মানুষ প্রযুক্তিকে বুঝতে, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী রূপান্তর করতে এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম, সেই দেশই প্রকৃত অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জন করবে।”
জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশটি অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশও শিক্ষা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে একই পথে এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের সৃজনশীল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতের কর্মবাজারে তাদের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্টিম শিক্ষা বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।