বৃক্ষরোপণই বাংলাদেশকে রক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম: ভূমিমন্ত্রী

বাংলাদেশকে রক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম বৃক্ষরোপণ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

শনিবার (২৫শে জুলাই) সকালে রাজশাহীর নজরুল ভিলেজে ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগ এ মেলার আয়োজন করেছে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। গাছকে সন্তানের মতো পরিচর্যা করে বড় করে তুলতে হবে। মানুষ ও গাছ একে অপরের পরিপূরক। মানুষ যে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে, গাছ তা গ্রহণ করে অক্সিজেন দেয়। তাই পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যা দুটিই জরুরি।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমিত সম্পদের মধ্যেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। মক্কার আরাফাত ময়দানে তাঁর রোপণ করা নিমগাছগুলো আজও ‘জিয়া ট্রি’ বা ‘জিয়া গাছ’ নামে পরিচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহীর সবুজায়নের প্রশংসা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতার কারণে রাজশাহী দেশের অন্যতম দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। নগরীর এই অর্জন ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে লাগানো গাছগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘিরে কয়েকটি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের রেডিও ট্রান্সমিশন টাওয়ার সংলগ্ন বড় ফাঁকা জায়গায় বৃক্ষ চাষ ও ফুলের বাগান করার প্রস্তাব দেন তিনি।

রাজশাহীতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনার কথাও বলেন ভূমিমন্ত্রী। ঝিনাইদহের মতো রাজশাহীতেও ফুলের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া রাজশাহী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করে কার্গো বিমানের মাধ্যমে ফল ও সবজি দুবাই ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

নগরীর টিএনটি ও শিমলা বাঁধসংলগ্ন খালি জায়গায়ও পরিকল্পিত বনায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান ভূমিমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর সবুজায়ন আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং বগুড়া সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নার্সারি মালিক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করেন ভূমিমন্ত্রী। বৃক্ষরোপণে অবদান রাখায় ৪০ জনকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করে সম্মাননা দেওয়া হয়।

এর আগে নগরীর কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নজরুল ভিলেজে গিয়ে শেষ হয়। পরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে বিভাগীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী।

১৫ দিনব্যাপী এ মেলায় ৫২টি স্টল রয়েছে। এসব স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। নগরবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলা থেকে পছন্দের গাছ সংগ্রহ করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *