বাংলাদেশে প্রথম সফরেই কুমিল্লার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন কলকাতার টলিউড অভিনেতা দেবজিৎ ঘোষ। কয়েক দিনের এই সফর শেষে বিদায়ের সময় তিনি বলেন, সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশে, বিশেষ করে কুমিল্লায় ফিরে আসবেন।
জুন মাসের শেষ দিকে কুমিল্লা বিদ্যাশিনী সাংস্কৃতিক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মিঠুন চক্রবর্তীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসেন দেবজিৎ ঘোষ। কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। সফরজুড়ে তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে সময় কাটান।
নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে দেবজিৎ বলেন, বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা তাঁর অনেক দিনের। তবে কুমিল্লায় এসে যে ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছেন, তা তাঁর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।
“এখানে এসে কখনোই মনে হয়নি আমি অন্য কোনো দেশে আছি। বরং মনে হয়েছে আমি নিজের মানুষদের কাছেই ফিরে এসেছি,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “এই কয়েক দিনে যে আন্তরিকতা পেয়েছি, তা আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। সুযোগ পেলে আবারও পরিবারকে নিয়ে বাংলায়, আবারও কুমিল্লায় আসতে চাই।”
সফরকালে দেবজিৎ ঘোষ কুমিল্লার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। তিনি স্থানীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন, গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সম্ভাবনারও প্রশংসা করেন।
দেবজিৎ ঘোষের মতে, দুই বাংলার শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ যত বাড়বে, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি তত সমৃদ্ধ হবে।
কুমিল্লা বিদ্যাশিনী সাংস্কৃতিক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই তাঁদের লক্ষ্য।
“দেবজিৎ ঘোষের মতো একজন শিল্পী কুমিল্লায় এসে মুগ্ধ হয়েছেন, এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। ভবিষ্যতেও দুই বাংলার শিল্পী ও সংস্কৃতির মধ্যে আরও বেশি বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
সফরের বিভিন্ন আয়োজনে দেবজিৎ ঘোষকে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়। স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে আড্ডা, গান, আলোকচিত্র ধারণ এবং মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাঁর সফরের সময়।
বিদায়ের আগে তাঁকে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার ও মিঠুন চক্রবর্তী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীশ্রী গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত স্বপন গোস্বামী, চন্দ্রিকা গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক নীলাঞ্জন দাশ, কুমিল্লা বিদ্যাশিনী সাংস্কৃতিক একাডেমির সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিদায়বেলায় আবেগঘন কণ্ঠে দেবজিৎ ঘোষ বলেন, “কুমিল্লার মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা কোনোদিন ভুলব না। পৃথিবীর অনেক জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু এমন আন্তরিকতা খুব কমই পেয়েছি। আমি আবারও আসব—এই বাংলার মানুষের কাছে, এই ভালোবাসার শহর কুমিল্লায়।”
দেবজিৎ ঘোষের এই সফরকে আয়োজকেরা দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়বে এবং দুই বাংলার শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হবে।