বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস, বিমান চলাচল, ডিজিটাল সেবা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন মিচেল লি। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে চলমান আগ্রহের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগের প্রেক্ষাপটে এ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিমান চলাচল খাতের আধুনিকায়ন, বিশেষ করে বিমানবন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন নিয়েও মতবিনিময় হয়। সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানায়।
দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (বাইলেটারাল ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট-এফটিএ) সম্পন্ন করার আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করে সিঙ্গাপুর। পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট সহযোগিতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে মিচেল লি আলোচনাকে ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো, বন্দর ব্যবস্থাপনা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মতো খাতে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বৈঠক সেই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।