আধুনিক কাতারের রূপকার হিসেবে পরিচিত দেশটির প্রয়াত সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণে দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে একটি স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০শে জুলাই) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান সভাপতিত্ব করেন। এতে কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, বাংলাদেশ দূতাবাস, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ স্কুল দোহার প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরদার ইসতিয়াক আহমেদ প্রয়াত আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জীবনী পাঠ করেন। তিনি আধুনিক কাতার গঠনে তাঁর নেতৃত্ব, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও কাতারের আমির-ই-দিওয়ানের ইতিহাসবিদ ড. হাবিবুর রহমান। তিনি শেখ হামাদের রাজনৈতিক জীবন, কাতারের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা এবং নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেন।
এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো শোকবার্তা পড়ে শোনান। প্রয়াত আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব সোয়াইব আহমাদ এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন অনুবাদক মোহাম্মদ আতাউর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কাতারকে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়াত আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার কাতার সফরের সময় লুসাইল প্রাসাদে কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। ওই সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, শেখ হামাদের মৃত্যুর দিন তিনি তাঁর জানাজায় অংশ নেন। পাশাপাশি দোহায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সহধর্মিণীদের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী শেখ হামাদের মাতা শেখা মোজা বিনতে নাসেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
প্রয়াত আমিরের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার ১৫ই জুলাই একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে বলেও রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কাতারের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে কাতার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
স্মরণসভা শেষে প্রয়াত আমিরের আত্মার শান্তি এবং কাতারের রাজপরিবার ও জনগণের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।