প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় বিমান ভ্রমণ, আবাসন, ভূমি সেবা এবং অন্যান্য সরকারি কার্যক্রমে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
মঙ্গলবার (২১শে জুলাই) সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘প্রবাসী কার্ড বিতরণে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের করণীয়’ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় মর্যাদা ও সেবা সবসময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে তাদের কাজের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শুধু কথায় প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বললেই হবে না, বাস্তব সেবার মাধ্যমে তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। এই উদ্যোগ সফল করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রবাসীদের জন্য বিমানসেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার জন্য ইতোমধ্যে শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবাসীদের জন্য আরও উন্নত ও সহজ সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল-মোটেলগুলোতে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরে ‘প্রায়োরিটি চেক-ইন’ ও ‘বোর্ডিং’ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত সেবাতেও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রবাসীদের জন্য ভূমি অফিসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা, আলাদা সহায়তা ডেস্ক বা ‘প্রবাসী কর্নার’ স্থাপন, দ্রুত নামজারি ও মিউটেশন সম্পন্ন এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত কাজে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা হলে দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ভূমি ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা সহজ করার লক্ষ্যেই প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
তিনি জানান, প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য প্রস্তাবিত ভূমি সেবাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে একজন ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে পারেন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আরও সহজ ও সম্মানজনক সেবা পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।