বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত হামবুর্গ সাসটেইনেবিলিটি কনফারেন্স (এইচএসসি) ২০২৬-এর “ওয়াটার-গ্রোথ নেক্সাস: সাসটেইনিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ইন এ থ্রার্স্টি ওয়ার্ল্ড ” শীর্ষক আলোচনায় প্যানেল বক্তা হিসেবে অংশ নেন বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট বিদিয়া অমৃত খান।
জার্মান ওয়াটার পার্টনারশিপের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, উন্নয়ন সহযোগী এবং টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। আলোচনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানিসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে জার্মানির ফেডারেল প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার, ফেডারেল মন্ত্রী কারস্টেন স্নাইডার, ফেডারেল মন্ত্রী রিম আলাবালি রাডোভানসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বিদিয়া অমৃত খান বলেন, বিজিএমইএ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ব্লু ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট কমানো, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি বলেন, টেকসই পরিবর্তনের সূচনা হয় বাস্তবধর্মী ছোট ছোট উদ্যোগ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পানিসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, সরকার এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন বিশ্বব্যাংকের ভ্যালেরি হিকি এবং উইলো গ্রুপের জর্জ ওয়েবার। তারা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পানিসম্পদের মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বলেন, বেসরকারি খাতের জন্য প্রযুক্তিগত সমাধানগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই ও বাস্তবসম্মত হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে পানি সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানিনির্ভর শিল্পগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে উৎপাদনের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনায়ও আরও দক্ষ ও দায়িত্বশীল হতে হবে। হামবুর্গের এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অংশগ্রহণ সেই বৈশ্বিক আলোচনায় দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।