বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় রপ্তানি বাজার জার্মানি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে দেশটি। আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণকে সামনে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং টেকসই উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জার্মানি।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিজিসিসিআই) সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের প্রভাব নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। এতে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা, কর বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অ্যাড ইন্টারিম আনজা কেরস্টেন।
বক্তব্যে আনজা কেরস্টেন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। সেই বাস্তবতায় দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি জানান, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জার্মানি বাংলাদেশের পাশে থাকতে প্রস্তুত।
সেমিনারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ফলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে করনীতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, রপ্তানি প্রতিযোগিতা এবং শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার বাস্তবতা মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, জুটপণ্য এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যও দেশটিতে রপ্তানি হয়।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই শিল্পায়নেও সহযোগিতা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে শুধু শুল্ক সুবিধার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। উৎপাদনের মান, উদ্ভাবন, পরিবেশগত মানদণ্ড এবং শ্রমমান নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জার্মানির মতো কৌশলগত অংশীদারদের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।