আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘লা ফুরিয়া রোজা’। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে স্পেন ছিল স্পষ্টভাবে এগিয়ে। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা পায়নি তারা।

ম্যাচজুড়ে স্পেন ৬৫ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখে এবং গোলে ২০টি শট নেয়। বিপরীতে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট নিতে সক্ষম হয়, যার দুটিই আসে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে। দিবু মার্তিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে দীর্ঘ সময় লড়াইয়ে রাখেন। তিনি একাই ১১টি সেভ করেন।

নির্ধারিত সময়ে স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালায়। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল ওয়ারজাবাল বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু প্রতিবারই সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান দিবু মার্তিনেজ।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা এরপর আরও বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। স্পেন আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও গোলের দেখা মিলছিল না।

শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। পেদ্রো পোরোর ক্রসে নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে ফিরিয়ে দেওয়া বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের একমাত্র গোল এবং স্পেনের বিশ্বজয় নিশ্চিত করে।

স্পেন আরও দুটি গোল করলেও দুটিই বাতিল হয়। একটি ফাউলের কারণে এবং অন্যটি অফসাইডের জন্য।

আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে মরিয়া চেষ্টা চালায়। তবে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি। পুরো ম্যাচে লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থরা স্পেনের রক্ষণভাগকে খুব কমই পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছেন।

এই শিরোপার মাধ্যমে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে নিজের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ করলেন। দুই বছর আগে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এবার তিনি দলকে বিশ্বকাপও জেতালেন। লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, দানি ওলমো, মার্ক কুকুরেলা, নিকো উইলিয়ামস ও ওয়ারজাবালদের নিয়ে গড়া নতুন প্রজন্ম স্পেনকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে পৌঁছে দিল।

অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল আর্জেন্টিনার। কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা লিওনেল স্কালোনির দল শেষ পর্যন্ত স্পেনের আধিপত্যের সামনে হার মানে। যদি এটিই লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ হয়ে থাকে, তবে তিনি তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্মৃতি নিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ থেকে বিদায় নেবেন।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করল স্পেন। এবার সেই ইতিহাসের নায়ক ফেরান তোরেস। তাঁর অতিরিক্ত সময়ের গোলেই স্প্যানিশ ফুটবলে যুক্ত হলো আরেকটি সোনালি অধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *