শ্রম খাতে সংস্কার, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সংস্থাটির মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হুংবো বলেছেন, শ্রম পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আইএলও’র কার্যক্রমের জন্য উদাহরণ হতে পারে।
বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হুংবো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটি ছিল তার দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের অংশ।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। তিনি জানান, শ্রম খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে আইএলও’র সহযোগিতা ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে বাংলাদেশে শ্রম প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, অভিবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য বৈধ ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার তৈরি নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শ্রম খাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি আইএলও’র আসন্ন গভর্নিং বডি অধিবেশনে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে। একই সঙ্গে আইএলও সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির পথ তৈরি হবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, আইএলও সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় কোনো সদস্য দেশের শ্রমমান ও আন্তর্জাতিক শ্রম কনভেনশন বাস্তবায়ন নিয়ে অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের শ্রম আইন, শ্রমিক অধিকার এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইএলও’র পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কারে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।
গিলবার্ট এফ. হুংবো বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার, শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইএলও’র সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও আইএলও’র দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শ্রম খাতে সংস্কারের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।