বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে এবার নতুন মডেল অনুসরণ করেছে সরকার। মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচার স্বত্ব কেনার ফলে সরকারের প্রকৃত ব্যয় প্রায় শূন্যের পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার (১৯শে জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর সম্প্রচার উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সরকার ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে ২০২৬ বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস কিনেছে। পরে দেশের চারটি সম্প্রচারমাধ্যমের কাছে সাব-লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে ওই অর্থের বড় অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ফলে সরকারের প্রকৃত ব্যয় এখন চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। চলমান রাজস্ব ভাগাভাগির আলোচনা সফল হলে এই ব্যয়ও পুরোপুরি উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন , সরকারের লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে বিশ্বকাপ দেখতে পারেন, কিন্তু জনগণের করের অর্থের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। সে কারণে দীর্ঘ আলোচনা, দর-কষাকষি এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে সরাসরি ফিফার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এবারের ব্যবস্থার তুলনাও তুলে ধরেন। তার দাবি, ২০২২ সালে ফিফা থেকে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব নেওয়া হলেও তা সরাসরি বাংলাদেশ সরকার কেনেনি। প্রথমে একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্বত্ব অধিগ্রহণ করে। পরে বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন সেই স্বত্ব কিনে নেয়।
মন্ত্রী জানান, এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রায় ৯৮ কোটি টাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্প্রচার স্বত্ব সংগ্রহ করে। একই সময়ে স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল মিডিয়া রাইটস পৃথকভাবে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। তার হিসাবে, পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
তার মতে, ২০২২ সালের ব্যবস্থায় দুই স্তরের মধ্যস্বত্বভোগী থাকায় অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এবার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কেনার ফলে সেই ব্যয় কমেছে। একই সঙ্গে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচার শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা। তবে এই সেবাকে কোনোভাবেই দুর্নীতির সুযোগে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়। অতীত ও বর্তমান ব্যবস্থার তুলনা করলে কোন পদ্ধতি রাষ্ট্রের জন্য বেশি লাভজনক ও স্বচ্ছ, তা জনগণই বিচার করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ সম্প্রচারকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, আর্থিকভাবে টেকসই এবং সম্ভাব্য আয়মুখী করতে এখন থেকেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য থাকবে জনগণের জন্য বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থও সংরক্ষণ করা।