বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। বল দখল, দ্রুত পাসিং, সংগঠিত আক্রমণ এবং প্রায় নিখুঁত রক্ষণভাগের সমন্বয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ম্যাচের প্রথম ভাগে দুই দলই ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেললেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগের একটি বড় ভুল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ডিফেন্ডার লুকা ডিগনের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেন এগিয়ে যায়। এরপর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে স্প্যানিশরা।
স্পেনের হয়ে প্রথম গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। দ্বিতীয় গোলটি করেন ডান প্রান্তের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। তার দুর্দান্ত শট ফরাসি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে স্পেনের জয় প্রায় নিশ্চিত করে।
পুরো ম্যাচে স্পেনের মাঝমাঠ ছিল অসাধারণ। রদ্রি খেলাটি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমো আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উইঙ্গার লামিন ইয়ামালও একাধিকবার ফ্রান্সের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন। একবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তার গোল বাতিল হয়।
রক্ষণভাগে মার্ক কুকুরেয়া ছিলেন অনবদ্য। ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে দেননি তিনি ও তার সতীর্থরা। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে, যা এসেছিল বেলজিয়ামের বিপক্ষে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার জন্য একাধিক পরিবর্তন আনেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশাম্প। মাইকেল ওলিসেকে তুলে রায়ান শেরকিকে নামানো হয়। রাবিওর পরিবর্তে কোনে এবং বারকোলার বদলে দুয়েকে মাঠে নামানো হয়। তবে এসব পরিবর্তনও ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারেনি।
এমবাপে কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও দেম্বেলে ও ওলিসে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। শেষ দিকে ফ্রান্স ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো প্রত্যাবর্তনের আশা করলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ সেই সুযোগ দেয়নি।
অন্যদিকে, স্পেনও শেষ দিকে কয়েকটি পরিবর্তন আনে। চোট কাটিয়ে নিকো উইলিয়ামস মাঠে নামেন। ফেরান তোরেস, পেদ্রি ও মিকেল মেরিনোও বদলি হিসেবে খেলেন।
এই জয়ের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের ধারাবাহিক সাফল্য আরও জোরালো হলো। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে শিরোপা জয়ের স্বপ্নের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেল দে লা ফুয়েন্তের দল।