রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দাবার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম গড়ার উদ্যোগ শাকের উল্লাহ ও বাস্তব ফাউন্ডেশনের

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন প্রজন্মের মধ্যে কৌশল, মনোযোগ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণ বিকাশে দাবা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছেন জাতীয় দাবাড়ু শাকের উল্লাহ ও বাস্তব ফাউন্ডেশন। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

দাবা শুধু একটি খেলা নয়, এটি চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং ধৈর্য তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম। এই বিষয়টি সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিশু ও তরুণদের দাবার সঙ্গে পরিচিত করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরিকল্পনা করার দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাতীয় পর্যায়ের দাবাড়ু শাকের উল্লাহ কক্সবাজার জেলার অন্যতম প্রতিভাবান দাবা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি তরুণদের মাঝে দাবার আগ্রহ তৈরি করতে কাজ করছেন। তার লক্ষ্য, সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।

বাস্তব ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কার্যক্রমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিশু-কিশোরদের নিয়মিত দাবা শেখানো হচ্ছে। প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে তাদের দাবার মৌলিক নিয়ম, কৌশল এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তারা মনে করছেন, দাবার চর্চা তরুণদের শুধু খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করবে না, বরং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়াবে। বিশেষ করে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য এ ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রম মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে খেলাধুলার ব্যবহার বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত। দাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা শিশুদের মনোযোগ বৃদ্ধি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নেতৃত্বের গুণ তৈরিতে সহায়তা করে।

শাকের উল্লাহ ও বাস্তব ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সুবিধাবঞ্চিত এলাকার আরও অনেক শিশু-কিশোর দাবার মাধ্যমে নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।

দাবার বোর্ডে তৈরি হওয়া কৌশল ও চিন্তার শক্তিই একদিন তাদের জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে পারে—এমন প্রত্যাশা নিয়েই এগিয়ে চলছে এই মানবিক উদ্যোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *