দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন-এর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (১৪ই জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। সাক্ষাৎকালে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংগঠনের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক চম্পা আক্তার, সাবেক প্রধান সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম রবি এবং বর্তমান প্রধান সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান।
সাক্ষাৎকালে বিডি ক্লিনের পক্ষ থেকে সংগঠনের গত এক দশকের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল ও নদী পরিষ্কার, বৃক্ষরোপণ এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা জানান, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের নগর ও জনপরিসরকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলতে তারা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।
২০১৬ সালের ৩রা জুন মাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে বিডি ক্লিনের যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা ৫৮ হাজারের বেশি। দেশের ৫৮টি জেলা এবং ১৬৫টি উপজেলায় তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বিডি ক্লিন ১৮টি খাল, ৭টি নদী এবং ৭৬টি পরিচ্ছন্ন উদ্যান গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিক ও বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, প্লাস্টিক দূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগর গঠনের অন্যতম শর্ত।
সে দৃষ্টিকোণ থেকে বিডি ক্লিনের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো গেলে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনের প্রচেষ্টা নতুন গতি পেতে পারে।