হংকংয়ে কর্মরত বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ‘ইনট্রোডাকশন টু কেয়ারগিভিং’ শীর্ষক একটি আপস্কিলিং কর্মশালার আয়োজন করেছে হংকংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। কর্মশালায় প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি গৃহকর্মী অংশ নেন। তারা প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ব্যবহারিক অনুশীলনে উৎসাহ দেখান।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন কনস্যুলেটের কনসাল (শ্রম) মো. জাহিদুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর। এ সময় ভাইস কনসাল উম্মে সালমা, ভাইস কনসাল মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে আইকন মেডিকেল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানের পেশাদার প্রশিক্ষক দল অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ড. স্টিফেন কওক ছয় সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা কেয়ারগিভিংয়ের মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেন। বিশেষ করে রক্তচাপ, নাড়ির গতি, শরীরের তাপমাত্রাসহ বিভিন্ন ভাইটাল সাইনস পরিমাপের বাস্তব প্রশিক্ষণ তাদের কাছে অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এসব দক্ষতা শুধু পরিচর্যা সেবায় নয়, দৈনন্দিন জীবনেও কাজে লাগবে।
প্রশিক্ষণ শেষে সফলভাবে অংশগ্রহণকারী সকলের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর আইকন মেডিকেল গ্রুপের প্রশিক্ষক দলের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। একই অনুষ্ঠানে ড. স্টিফেন কওক কনসাল জেনারেলের হাতে একটি সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
কনস্যুলেট জানিয়েছে, হংকংয়ে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আপস্কিলিং কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করা হবে।
হংকংয়ে প্রায় দুই লাখের বেশি বিদেশি গৃহকর্মী কাজ করেন। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশি। শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেয়ারগিভিং, বয়স্ক সেবা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক দক্ষতা অর্জন আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।