নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ক্লাইমেট ক্যাম্প। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং তরুণদের নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা কুমারী চৌধুরী। এছাড়া নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য বিশাল নিউপানে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ও উইং প্রধান এ. কে. এম. সোহেলসহ বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ও নেপাল ভৌগোলিকভাবে ভিন্ন হলেও উভয় দেশই এর গুরুতর প্রভাবের মুখোমুখি। তাই এই সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সম্প্রদায়ভিত্তিক অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, টেকসই ও উদ্ভাবনী জলবায়ু সমাধান তৈরিতে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্লাইমেট ক্যাম্প বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতা, গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং জলবায়ু কর্মীদের একত্রিত হওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এটি আন্তর্জাতিক ক্লাইমেট ক্যাম্পের দ্বিতীয় আসর। পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলাদেশ, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, যুব প্রতিনিধি ও গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন। কর্মসূচিতে জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ, গবেষণা সহযোগিতা, নীতি প্রণয়ন এবং তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ নিয়ে আলোচনা হবে।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং যুব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য ফলপ্রসূ ও অনুপ্রেরণামূলক কর্মসূচি কামনা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ জোরদার করা সময়ের দাবি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।