বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (৬ই জুলাই) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বৈঠকে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ফ্রান্স পাশে থাকতে চায়। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণে ফ্রান্সের আগ্রহ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর কর্মসূচিতে ফ্রান্সের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বহু বছর ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে ফ্রান্সের উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি)। সংস্থাটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন এবং শিল্প খাতে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
বর্তমানে ঢাকায় স্মার্ট গ্রিড অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সবুজ অর্থায়ন সম্প্রসারণেও এএফডি কাজ করছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব করা।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একই সময়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং দক্ষতা বিনিময়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে উভয়েই পরিচ্ছন্ন, টেকসই এবং জলবায়ু-সহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, এ সহযোগিতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।