ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদির সাম্প্রতিক প্রকাশ্য উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে তাঁকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ছবিটি প্রকাশের পর ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়, দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে না থাকা ভাহিদি কীভাবে আবার প্রকাশ্যে এলেন এবং তাঁর এই উপস্থিতির পেছনে কোনো কৌশলগত বার্তা রয়েছে কি না।
আহমদ ভাহিদি ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আইআরজিসির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার আওতায়ও রয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার ১৯৯৪ সালের এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে।
সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সময় ভাহিদি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে ছিলেন না। এ কারণে বিভিন্ন মহলে ধারণা তৈরি হয় যে, তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে আড়ালে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়ে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁকে খুঁজছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নয়। এটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও বহন করতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ভাহিদির প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়া একটি পরিকল্পিত সংকেত হতে পারে। তবে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা হয়নি।
ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় আইআরজিসির প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণে বাহিনীটির ভূমিকা অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের যেকোনো প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও করা হচ্ছে যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে আহমদ ভাহিদির উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সমর্থনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতিটি পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণের অংশ হয়ে উঠছে। আহমদ ভাহিদির এই প্রকাশ্য উপস্থিতিও সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।