বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে শেষ ষোলোতেই। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও তাতে পরাজয় এড়ানো যায়নি।
ম্যাচের শুরুতে গোল করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। নবম মিনিটে ম্যাথেউস কুনহার ওপর ফাউলের ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি দেয় রেফারি। কিন্তু ব্রুনো গুইমারেসের দুর্বল শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নাইল্যান্ড। এই সেভই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পুরো ম্যাচে নাইল্যান্ড ছিলেন নরওয়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি তিনি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ও রায়ানের একাধিক প্রচেষ্টা রুখে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে একটি আত্মঘাতী গোলের সম্ভাবনাও অসাধারণ প্রতিক্রিয়ায় ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন।
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তির কৌশলও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ইনজুরির কারণে লুকাস পাকেতা খেলতে না পারায় মিডফিল্ডে মার্টিনেলিকে খেলান তিনি। তবে এই পরিবর্তনে দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রাজিল উইংভিত্তিক আক্রমণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা।
দ্বিতীয়ার্ধে ধৈর্য ধরে রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় নরওয়ে। ৭৯তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে অস্কার বব শেল্ডেরাপের ক্রসে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসকে হারিয়ে হেডে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আবারও শেল্ডেরাপের আক্রমণ থেকেই আসে দ্বিতীয় গোল। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ফাঁকা জায়গার সুযোগ নিয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড। এতে ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। নেইমার সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান কমান। তবে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রাজিলের বিদায়।
এই পরাজয় ব্রাজিলের জন্য হতাশাজনক একটি অধ্যায়। ১৯৯০ সালের পর আবারও শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হলো সেলেসাওদের। দীর্ঘ ৩৬ বছরের মধ্যে এটি বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে হতাশার অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, নরওয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, কার্যকর পাল্টা আক্রমণ এবং হালান্ডের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের ওপর ভর করে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দলকে বিদায় করে তারা নিজেদের সামর্থ্যেরও জোরালো প্রমাণ দিয়েছে।