রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লার ৫৮তম অভিষেক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবসেবা, বন্ধুত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় নিয়ে বুধবার (১লা জুলাই) রাতে নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, আমন্ত্রিত অতিথি এবং ২০২৬–২০২৭ রোটা বর্ষের নবগঠিত কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন দেশের গর্ব, এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত। তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, রোটারি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে থেকে মানবকল্যাণে কাজ করে আসছে। তিনি নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তাদের নিষ্ঠা, সততা ও সেবার মানসিকতা ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি রোটারিয়ান জীবন কৃষ্ণ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, রোটারি শুধু একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন নয়, এটি মানবসেবার একটি বৈশ্বিক আন্দোলন। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আত্মনিবেদিত সেবার আদর্শকে সামনে রেখে নতুন কমিটি আগামী দিনে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান ছিলেন পিপি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লা ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। তাঁর পরিকল্পনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে ২০২৬–২০২৭ রোটা বর্ষের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা রোটারির মূলমন্ত্র “Service Above Self” অনুসরণ করে সমাজের সব স্তরের মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রধান অতিথি এম এ মুহিতের সঙ্গে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফটোসেশন। এ সময় অতিথি ও সদস্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয় এবং নতুন নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবসেবার বার্তা। উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লা আগামী দিনগুলোতে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করবে এবং মানুষের পাশে থেকে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।