বাংলাদেশ–তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে আঙ্কারায় উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরামর্শ সভা

বাংলাদেশ ও তুরস্কের (তুরকিয়ে) মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আঙ্কারায় একটি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার শিরোনাম ছিল “স্ট্রেংদেনিং বাংলাদেশ-তুর্কিয়ে ডিফেন্স কোঅপারেশন”।

সভায় সভাপতিত্ব করেন তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আমানুল হক। সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেকুত রহমান।

আলোচনায় মূল বক্তা ছিলেন বাসকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান উনাল এবং সিগমা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিপ্লোম্যাটিক ক্লাব আঙ্কারার প্রতিষ্ঠাতা ড. আহমেদ দোগান।

সভায় বাংলাদেশ–তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার, প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং তরুণ প্রকৌশলী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের সম্পৃক্ত করার উপায়।

আলোচকরা তুরস্কের শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা, মানবসম্পদে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং দেশীয় উদ্ভাবন একটি সফল প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এর ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সের অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুত করা একটি গবেষণা প্রশ্নমালা নিয়েও আলোচনা হয়। তারা বাংলাদেশ–তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কৌশল নিয়ে গবেষণা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুপারিশ তাদের গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বিশেষজ্ঞরা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সেগুলোর উত্তর দেন। এতে বাংলাদেশ–তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।

সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাংলাদেশ–তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য আরও কার্যকর কৌশল প্রণয়নে সহায়ক হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এসব সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করতে তারা ধারাবাহিক সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, শিল্প সহযোগিতা এবং সক্ষমতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশ নতুন নতুন সুযোগ নিয়ে কাজ করছে। আঙ্কারার এই কৌশলগত পরামর্শ সভাকে সেই সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *