সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে জমকালো আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে কুমিল্লা বিদ্যাশিনী সাংস্কৃতিক একাডেমির ৫ম বর্ষপূর্তি।
শনিবার (২৭শে জুন ) বিকেলে কুমিল্লা নজরুল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের অতিথি, শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একাডেমির শিক্ষার্থীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে বর্ণাঢ্য প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে বর্ষপূর্তি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে জ্ঞান, মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির আলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এরপর অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা বিদ্যাশিনী সাংস্কৃতিক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মিঠুন চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ভারতের কলকাতা থেকে আগত টলিউডের অভিনেতা দেবজিৎ ঘোষ। বক্তব্যে তিনি বলেন, দুই বাংলার মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধন ভাষা ও সংস্কৃতি। নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মলিনা রানী চক্রবর্তী। তিনি বলেন, একটি জাতির নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা বিকাশে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা অপরিহার্য। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে বিদ্যাশিনী সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার নূরুল হক, সংগীতশিল্পী তীর্থ ভদ্র, বিটিভির কণ্ঠশিল্পী সুষ্মিতা সরকার, কবি বিলাস চৌধুরী, বিষ্ণুপদ দে রায়, জাগো হিন্দু কুমিল্লার সভাপতি কিশোর দাস এবং কুমিল্লা ক্যামব্রিয়ান কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও সংগীতশিল্পী তপতী দেবনাথ। তাঁরা বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা একটি সুস্থ, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গত পাঁচ বছরে একাডেমি যে নিষ্ঠার সঙ্গে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা প্রশংসনীয়।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, চন্দ্রিকা গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের কর্ণধার তিথি চক্রবর্তী এবং শিল্পী সম্পা রানী দাস। তাঁরা শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একাডেমির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, গত পাঁচ বছরের পথচলা সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একাডেমি এগিয়ে এসেছে। তাদের লক্ষ্য শুধু শিল্পী তৈরি করা নয়, বরং মানবিক ও সংস্কৃতিমনা মানুষ গড়ে তোলা। তিনি একাডেমির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন শুভ দেবনাথ ও একাডেমির শিক্ষার্থী রীতা সাহা।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনা, সম্মাননা প্রদান, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং কেক কাটার আয়োজন করা হয়। একাডেমির ক্ষুদে শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
শেষে কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পাঁচ বছর পূর্তির এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং সমাজে মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের চর্চা আরও শক্তিশালী করবে।