আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর বিজয়নগরে সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর এগারো দলীয় ঐক্য। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিচার প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে হওয়া দেশের জন্য হতাশাজনক। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন সরকার গঠনের পর গত চার মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) কোনো নতুন রায় বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার কার্যক্রমে অগ্রগতি না হওয়া সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যর্থতার প্রমাণ। তিনি অবিলম্বে দায়িত্ব পরিবর্তন করে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান, যাতে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, জুলাইয়ের সহিংসতা এবং ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের আস্থা ধরে রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগের কারণে দলটি জনসমর্থন হারিয়েছে। তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দলটির রাজনৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনের যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হবে।
বিচার, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিচার কার্যক্রমে ধীরগতি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক শক্তির পুনর্বাসন ঠেকাতে না পারার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বিচার, সংস্কার ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।