রাজধানীর বকশীবাজারে শান্তি, সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়ে শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করেছে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশ।
শুক্রবার (১৬ই মে) বিকেল ৩টায় বকশীবাজারস্থ আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের জাতীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, লেখক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের ন্যাশনাল আমীর আলহাজ্ মাওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, বিদ্বেষ ও বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে। এমন সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। তারা মত দেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মগুলোর মৌলিক শিক্ষা একে অপরের কাছাকাছি।
আহমদীয়া জামা’তের বক্তারা বিশ্ব আহমদীয়া খলীফার জুমআর খুতবার আলোকে বলেন, মুসলিম দেশগুলোর উচিত পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ক্ষুদ্র মতপার্থক্য উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রয়োজন। পবিত্র কুরআন শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি সুযোগ গ্রহণের শিক্ষা দেয়। সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও সংলাপ ও সমঝোতার পথ খোলা রাখা উচিত।
তাদের ভাষ্য, কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ যদি নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য হয়, তবে তা টেকসই শান্তি আনতে পারে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
সম্মেলনে বক্তারা ইসলাম ধর্মের মানবিক ও সহনশীল দিকও তুলে ধরেন। তারা বলেন, ইসলাম জোর-জবরদস্তি বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং যুক্তি, প্রমাণ, প্রেম ও ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করার শিক্ষা দেয়। অমুসলিমদের অধিকার রক্ষা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার বিষয়েও ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু বলেন, গৌতম বুদ্ধের অনুসারীরা সব প্রাণীর সুখ ও শান্তি কামনা করে। তিনি বিশ্ব শান্তির জন্য পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন-এর প্রতিনিধি স্বামী দেবাধ্যানান্দ বলেন, প্রত্যেক ধর্মই অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার শিক্ষা দেয়। ধর্মগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা গেলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
রমনা-কাকরাইলের ক্যাথলিক চার্চের ধর্মযাজক ড. ফাদার তপন ক্যামিলাস ডি রোজারিও বলেন, ধর্মকে অনেক সময় সংঘাতের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও প্রকৃত ধর্ম কখনো অসহিষ্ণুতা সমর্থন করে না। ধর্ম মানুষের নৈতিকতা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ শামস বিন তারেক, মোহাম্মদ মোস্তফা আলী জিসান এবং মাওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বাসুদেব ধর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক কাজী নূরুল ইসলাম, কাজল দেবনাথ, অধ্যাপক নিরু বরুয়া, রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং সাংবাদিক-লেখক উম্মুল ওয়ারা সুইটি।
সম্মেলন শেষে বিশ্ব শান্তি ও মানবকল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।