মে দিবসের আলোচনায় শ্রম আইনে প্রণয়নে ‘প্রতারণা’র অভিযোগ

মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তোপখানা রোডে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, বহুল আলোচিত শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সরকার শ্রমিকদের সঙ্গে “চরম প্রতারণা” করেছে।

শুক্রবার (১লা মে) বিকেলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার শ্রমিক আন্দোলনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিদেশি পক্ষের পছন্দের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছে, কিন্তু শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রম খাতের স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলো আইন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রভাবশালী মালিকপক্ষের একটি অংশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত, তাই সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। “এটি শ্রমিক সমাজের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণার শামিল,” বলেন তিনি।

হাসনাত কাইয়ূম আরও সমালোচনা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত মে দিবসের একটি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনকে প্রধান অতিথি করার বিষয়টি নিয়ে। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তন আনা উচিত ছিল বলে তারা মনে করেন। এই প্রেক্ষাপটে মে দিবসের অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি করা শ্রমিকদের প্রতি অবিচার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক সংগঠক আব্দুল জলিল। এছাড়া বক্তব্য দেন মাহবুবুর রহমান সেলিম, মঞ্জুর কাদির, মাহবুবুল আলম চৌধুরী, মোশাররফ হোসেন মন্টু ও আব্দুর রহমানসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ এ এম ফয়েজ হোসেন, হারুন অর রশিদ, দিদার ভূঁইয়া, মোহাম্মদ সোহেল ও জহিরুল ইসলাম কাজল প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন মুহাম্মদ সানাউল্লাহ সাগর।

মে দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে সাভার ও গাজীপুরে, একই সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শ্রমিক নেতাদের এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *