আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও এক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সমাজসেবী মনসুর আহমদ। মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তিনি জার্মানির রাজধানী বার্লিন-এ আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বিশেষ স্বীকৃতি পান।
‘হিউমানিটারিয়ান কংগ্রেস বার্লিন ২০২৬ -এর আমন্ত্রণে তিনি ২১ ও ২২ এপ্রিল ‘সাইলেন্ট গ্রিন কালচারকোয়ার্টিয়ার’-এ অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নেন। ২০২৬ সালের কংগ্রেসের প্রতিপাদ্য ছিল—সংকটকালীন মানবিকতা, ক্ষমতার প্রভাব এবং সংস্থাগত পরিবর্তন।
সম্মেলনে বৈশ্বিক মানবিক খাতের নানা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। দাতা সংস্থার সহায়তা কমে যাওয়া, রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দুর্বলতা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আয়োজনে অংশ নেয় ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, ডক্টরস অব দ্য ওয়ার্ল্ড , জার্মান রেড ক্রস, অক্সফাম জার্মানি এবং দ্য নিউ হিউমানিটারিয়ান -এর মতো সংস্থা।
মনসুর আহমদ সম্মেলনে মানবিক সহায়তার পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক সংকট, ত্রাণ সহায়তায় স্বচ্ছতা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভূমিকা উঠে আসে।
তিনি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার বিষয়েও মত দেন। স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক সহায়তা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
মনসুর আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে সামাজিক সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে কাজ করছেন। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন ব্রিটিশ এম্পায়ার মেডেল, ব্রিটিশ সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড এবং ইন্টারন্যাশনাল হিউমানিটারিয়ান প্রাইজ -সহ একাধিক সম্মাননা। এছাড়া হাউস অফ লর্ডস এবং হাউস অফ কমন্স থেকেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন বক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। তিনি এর আগে জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়, ইউরোপীয় মানবিক ফোরাম এবং যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন।
তার লেখা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব লেখায় মানবিক সহায়তা, শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আহমদিয়া মুসলিম জামাত, যুক্তরাজ্যের একজন সক্রিয় সদস্য। মানবতার সেবায় তার ধারাবাহিক কাজ আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।