ঢাকায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR) বিষয়ে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুনভাবে নজর দিচ্ছে কানাডা। এ লক্ষ্যেই রাজধানীতে আয়োজন করা হয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফটো প্রদর্শনী—“সাইলেন্ট ফ্রেমস, লাউড ভয়েজেস: এক্সপ্লোরিং SRHR থ্রু কমিউনিটি লেন্স”।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। তার সঙ্গে ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ আশরাফি আহমদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জোবাইদা বেগম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নিশাত পারভিন।
প্রদর্শনীতে ১৬টি আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় ঢাকার নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র। এসব ছবি তুলেছেন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে নারী ও কিশোরীদের নানা চ্যালেঞ্জ—যেখানে সচেতনতা, সেবা প্রাপ্তি ও সামাজিক বাধা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা যায়।
এ আয়োজনের অংশ হিসেবে তরুণদের পরিবেশনায় একটি শিক্ষামূলক নাটকও মঞ্চস্থ হয়, যা দর্শকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই উদ্যোগটি “প্রজনন স্বাস্থ্য বন্ধু—ইমপ্রুভিং SRHR ইন ঢাকা” প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত। প্রায় ১২.২ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে কানাডা এবং বাস্তবায়ন করছে হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অফ কানাডাও ইপাস বাংলাদেশ।
প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১,০০০-এর বেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে এবং ঢাকার ১৫৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মানুষকে মানসম্মত সেবা নিতে উৎসাহিত করছে।
প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত সরাসরি উপকৃত হয়েছেন ৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি নারী ও কিশোরী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাতেও ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকার, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। কানাডা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়।
তরুণদের সম্পৃক্ত করে এমন উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।