১৬ কোটি রুপির ঋণ, নিলামে রাজপাল যাদবের দুই সম্পত্তি

বিজয় মজুমদার

বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের আর্থিক ও আইনি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এবার তার দুটি সম্পত্তি নিলামে তুলতে যাচ্ছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরে অবস্থিত দুটি সম্পত্তি ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইন নিলামে তোলার কথা রয়েছে। ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৬১ লাখ রুপির বেশি।

ব্যাংকের নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে সম্পত্তিগুলোকে ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঋণটি নেওয়া হয়েছিল চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। রাজপাল যাদবের স্ত্রী রাধা যাদব ও তার পরিবারের সদস্যদেরও এই ঋণের জামিনদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া রাজপাল যাদবের শাহজাহানপুরের একটি সম্পত্তির অংশ দখলে নেয়। ওই সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সম্পত্তি বন্ধক রেখে নেওয়া ঋণের মূল পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি রুপি। সুদ ও অন্যান্য পাওনা যোগ হয়ে তা প্রায় ১১ কোটি রুপিতে পৌঁছেছিল।

সম্পত্তিটি শাহজাহানপুরের কাচারি এলাকার সেথ এনক্লেভে অবস্থিত। ব্যাংকের মুম্বাইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স শাখা থেকে ঋণটি দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ব্যাংকের একটি দল সেখানে গিয়ে সম্পত্তির অংশবিশেষ সিল করে দেয়।

এই ঋণের সঙ্গে রাজপাল যাদবের চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ‘শ্রী নওরং গোদাবরী এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

তবে এই ব্যাংকঋণের ঘটনা রাজপাল যাদবের দীর্ঘদিনের আরেকটি ঋণসংক্রান্ত মামলার থেকে আলাদা।

২০১০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে রাজপাল যাদব প্রায় ৫ কোটি রুপি আর্থিক সহায়তা নিয়েছিলেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি ‘আতা পাতা লাপাতা’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। সিনেমাটি ২০১২ সালে মুক্তি পায়। তবে বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

ঋণের অর্থ ফেরত দিতে রাজপাল যাদব যে চেকগুলো দিয়েছিলেন, সেগুলো বাউন্স করে। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ২০১৮ সালে এ ঘটনায় তাকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ ১০ জুলাই ২০২৬ দিল্লি হাইকোর্ট ওই চেক বাউন্সের সাতটি মামলায় রাজপাল যাদবের দণ্ড বহাল রাখে। আদালত প্রতিটি মামলায় তাকে তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেয়। তবে সাতটি সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। অর্থাৎ সাতটি সাজা যোগ হয়ে ২১ মাসের কারাদণ্ড হবে না।

প্রতিটি মামলায় রাজপাল যাদবকে ১ কোটি ৫ লাখ রুপি করে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রাধা রাজপাল যাদবকেও প্রতিটি মামলায় অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত ইতোমধ্যে পরিশোধ করা অর্থ হিসাবের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আপিলের সুযোগ দিতে সাজা দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল।

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা রায়ে উল্লেখ করেন, আদালতের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধে রাজপাল যাদব বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।

এদিকে নতুন করে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগ তার আর্থিক সংকটকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। ১৬ কোটি ৬১ লাখ রুপির বেশি পাওনা আদায়ে ব্যাংক এবার বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির পথে এগিয়েছে। নিলাম সফল হলে ওই সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করবে ব্যাংক।

রাজপাল যাদব বলিউডের পরিচিত কৌতুক অভিনেতাদের একজন। ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘ফির হেরা ফেরি’, ‘চুপ চুপ কে’সহ বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনায়ও কাজ করেছেন।

তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের সেই উদ্যোগ থেকেই তৈরি হওয়া ঋণের বোঝা এক দশকের বেশি সময় পরও তার পিছু ছাড়ছে না। পুরোনো চেক বাউন্স মামলা এবং নতুন করে ব্যাংকের সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগ—দুই দিক থেকেই এখন কঠিন আইনি ও আর্থিক পরিস্থিতির মুখোমুখি এই অভিনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *