যাত্রাশিল্পের সংরক্ষণে সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

বাংলাদেশের হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পধারা যাত্রাশিল্পের সংরক্ষণ, শিল্পীদের কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন মনন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “যাত্রা শুধু একটি নাট্যধারা নয়; এটি বাঙালি সংস্কৃতির আদি শেকড় ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রাণস্পন্দন। যাত্রাশিল্প আমাদের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগণের জীবনবোধের ধারক। এই ঐতিহ্যকে যুগোপযোগী করে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে, শিল্পীদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং যাত্রাশিল্পের সুস্থ বিকাশে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, যাত্রাশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শিল্পীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, নতুন প্রজন্মকে এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং আধুনিক সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর বিকাশ ঘটানো জরুরি।

সম্মেলনে বক্তারা যাত্রাশিল্পের বর্তমান অবস্থা, শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা বলেন, দেশের অন্যতম প্রাচীন এই লোকনাট্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকার, শিল্পী, গবেষক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আলোচনায় যাত্রাশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও দর্শকবান্ধব করে তোলার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রাশিল্প দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে এবং লোকজ সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *