দেশের নৌ-পরিবহন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই নৌ-পরিবহন, বন্দর অবকাঠামো ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইকুইলাইন ফাইন্যান্স-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সরকার।
সোমবার (২০শে জুলাই ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপির সঙ্গে প্রতিনিধি দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সম্প্রসারণ, সমুদ্রভিত্তিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে অবকাঠামো উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি সমুদ্রগামী জাহাজ সরবরাহ, আধুনিক সামুদ্রিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিকস সুবিধা গড়ে তুলতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে। গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল এবং আঞ্চলিক সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে নৌ-পরিবহন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনার পরিচয় দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং বৈদেশিক অংশীদারিত্ব এ খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বৈঠকে ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার, বন্দরনির্ভর শিল্পায়ন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে নৌ-পরিবহন খাতে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার পথও সুগম হবে। এতে দেশের ব্লু ইকোনমি বিকাশ এবং সামুদ্রিক অবকাঠামোর আধুনিকায়নে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে।