ধর্মীয় শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে নতুন প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়

ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা কুমিল্লার চন্দ্রিকা গীতা শিক্ষা কেন্দ্রে বিশেষ পরিদর্শন, মতবিনিময় ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬শে জুন) বিকেল ৫টায় শিক্ষা কেন্দ্র প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা টিভি ও চলচ্চিত্রের অভিনেতা দেবজিৎ ঘোষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। এছাড়া শিক্ষা কেন্দ্রের কর্ণধার তিথি চক্রবর্তী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তারা শিক্ষা কেন্দ্রের শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান কার্যক্রম, গীতা শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চান।

অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ একজন মানুষকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা অধ্যবসায়, সততা, দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষা কেন্দ্রের কর্ণধার তিথি চক্রবর্তী প্রধান অতিথি দেবজিৎ ঘোষের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণে তাঁর অবদান এবং শিক্ষা কেন্দ্রে আগমনের স্মরণে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেবজিৎ ঘোষ বলেন, জীবনের প্রকৃত সাফল্য শুধু খ্যাতি বা সম্পদ অর্জনে নয়, বরং একজন সৎ, আদর্শবান ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধকে জীবনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা চরিত্র গঠন, পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষা কেন্দ্রের কর্ণধার তিথি চক্রবর্তী বলেন, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য শুধু গীতা পাঠ শেখানো নয়; বরং ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে এবং তাদের চরিত্র গঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকেরা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের মতে, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শিশুদের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

শিক্ষার্থীরাও অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শোনার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন ধর্মীয় শিক্ষা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে শিক্ষা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *