উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২২ মিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করছিল, তবে তা বিপৎসীমার নিচেই ছিল। মঙ্গলবার রাতের ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে বুধবার থেকে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাতে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
পানি বাড়তে থাকায় জেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নভূমির মানুষ বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে।
নদীপাড়ের সিঁদুনা গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদ বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে এবার তিস্তার পানি দ্রুত বেড়েছে। অনেক চরাঞ্চলের বাড়িতে ইতোমধ্যে পানি ঢোকার উপক্রম হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বন্যা দেখা দিলে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি রক্ষা এবং সাপ-পোকার উপদ্রবও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী কয়েকটি উঁচু সড়কও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলোর স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় এগুলো দুর্বল হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় কাজ না করে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও তুলেছেন অনেক বাসিন্দা।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। উজানে বৃষ্টিপাত ও ঢল অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিকভাবে নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উজানের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তা অববাহিকায় পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে চরাঞ্চল, নিম্নভূমি এবং নদীতীরবর্তী বসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সাব্বির হোসেন
হাতিবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি