খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের বুদংছড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল)–এর তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় একটি রাইফেল, গুলি ও চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
শনিবার (১৬ই মে) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি আভিযানিক দল বুদংছড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘটনাস্থল অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেনাসদস্যরা তাদের থামার সংকেত দেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, সেনাসদস্যদের চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে ওই ব্যক্তিরা গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। এতে ইউপিডিএফ (মূল) দলের সদস্য সাথোয়াই মারমা (৩২) গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে রনেল চাকমা (২৮) ও সার্চিং মারমা ওরফে রাজু (২২) নামের আরও দুজনকে আটক করা হয়।
সেনাবাহিনীর দাবি, আটক রনেল চাকমা সংগঠনটির “পোস্ট কালেক্টর” হিসেবে কাজ করতেন। অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ব্যবহৃত কার্তুজ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গুলিবিদ্ধ সাথোয়াই মারমাকে প্রথমে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পাহাড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।