কসোভোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে এফটিএর পথে বাংলাদেশ

কসোভোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক ও ওষুধসহ বাংলাদেশি পণ্যের কসোভোর বাজারে প্রবেশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৩ই   আগস্ট কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় দেশটির শিল্প, উদ্যোক্তা, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনমন্ত্রী মিমোজা কুসারি-লিলার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয়বিষয়ক সচিব রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কসোভোর অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ওষুধশিল্প, বায়োটেকনোলজি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর।

দুই দেশই বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ জন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশ কসোভোকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ এবং অন্যান্য পণ্য আমদানির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে দেখতে কসোভোর ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলোও তুলে ধরা হয়।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ কসোভোর বেসরকারি খাতের একটি অনুসন্ধানী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

কসোভো চেম্বার অব কমার্স এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি -এর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা বৈঠকে উঠে আসে। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর কসোভোতে উৎপাদন লাইন স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় ছিল।

কসোভোর মন্ত্রী মিমোজা কুসারি-লিলা দেশটির বিনিয়োগ সুবিধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারের কাছাকাছি অবস্থান কসোভোর অন্যতম সুবিধা।

এ ছাড়া দেশটির রাজস্ব ও আর্থিক নীতি, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগকে বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কসোভো সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন -এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বাণিজ্য কাঠামোর সুবিধাও তুলে ধরে। কসোভোর মতে, পশ্চিম বলকান অঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্যও সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা। দুই পক্ষ মনে করছে, এমন একটি চুক্তি হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য কসোভোর বাজার ইউরোপমুখী বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্র। অন্যদিকে কসোভোও বাংলাদেশের বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষিণ এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সংযোগকে কাজে লাগাতে পারে।

তবে এফটিএ নিয়ে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং দুই দেশের চেম্বারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আলোচনাটি আরও কাঠামোবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সাম্প্রতিক বৈঠকটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কেবল পণ্য বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের দিকে নেওয়ার একটি উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *