অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে সিরিজের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ দেখালেন, দেশের বাইরে কেন তিনি বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পেসার হয়ে উঠছেন। পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে প্রথম দিনেই ছয় উইকেট নিয়ে তিনি শুধু বাংলাদেশকে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে রাখেননি, গড়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলকও।
দিনভর ৭৯টি ডট বল করেছেন হাসান। বোলিং করেছেন তিনটি মেডেন ওভার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, পুরো দিনে তাঁর একটি ওয়াইড বা নো-বলও হয়নি। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ, ধারাবাহিকতা ও ধৈর্যের এক অনন্য সমন্বয় দেখা গেছে তাঁর বোলিংয়ে।
হাসানের এই ছয় উইকেটের গুরুত্ব শুধু ম্যাচের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে তাঁর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাই এই কীর্তিকে আলাদা করে তুলেছে।
এ নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন হাসান মাহমুদ। তাঁর প্রথম ১৫ টেস্টের মধ্যেই তিনটি কঠিন বিদেশ সফরে এমন বোলিং বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিরল ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন হাসান। সেই সিরিজে পেয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। এরপর ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টেও পাঁচ উইকেটের দেখা পান তিনি। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে এসে তুলে নিলেন ছয় উইকেট।
তিনটি ভিন্ন দেশের কন্ডিশন। তিন ধরনের প্রতিপক্ষ। কিন্তু ফলাফল প্রায় একই—হাসান মাহমুদের হাতে বল এবং ব্যাটারদের ওপর চাপ।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পেসারদের জন্য কাজটা সহজ নয়। উপমহাদেশের বাইরে পিচ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, নতুন বলের ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় বল করার ক্ষমতা একজন পেসারের বড় পরীক্ষা। হাসানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, সেই পরীক্ষায় তিনি ক্রমেই নিজেকে প্রমাণ করছেন।
তাঁর বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এর সরলতাতেই। ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে নিয়মিত বল করার পাশাপাশি তিনি ধারাবাহিকভাবে ভালো লেংথে বল করেন। বলের সিমে সামান্য নড়াচড়া তৈরি করে ব্যাটারকে ভুল করার সুযোগ দেন। অতিরিক্ত বৈচিত্র্য দেখানোর চেয়ে নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্যকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
এই ধরনের বোলিং অনেক সময় দর্শকের চোখে খুব নাটকীয় মনে হয় না। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে দিনের পর দিন একই জায়গায় বল করে যাওয়ার ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য তৈরি করে। ডারউইনে হাসানের ছয় উইকেট সেই কথাটিই আবার মনে করিয়ে দিল।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিপক্ষ। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া সাধারণত নিজেদের কন্ডিশন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালোভাবে জানে। এমন একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম দিনেই ছয় উইকেট নেওয়া শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের জন্যও বড় অর্জন।
হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ার এখনো শুরুর পর্যায়ে। প্রথম ১৫ টেস্টেই পাকিস্তান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড অবশ্যই তাঁকে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। তবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
ডারউইনের এই দিনটি তাই শুধু একটি ছয় উইকেটের বোলিং ফিগার নয়। এটি বাংলাদেশের একজন পেসারের বিদেশের মাটিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার গল্পের আরেকটি শক্ত অধ্যায়।