উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের তিনটি যাত্রীবাহী জাহাজকে ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাহাজ তিনটি হলো—এমভি মধুমতি, এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধা।
শুক্রবার (১৮ই সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার সদরঘাটের বাদামতলী এলাকায় বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনালে জাহাজ তিনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী। এ ছাড়া দুই মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজগুলোতে আধুনিক চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হবে। এর মধ্যে থাকবে অস্ত্রোপচারের কক্ষ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, জরুরি চিকিৎসা বিভাগ, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাগার এবং বহির্বিভাগ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধাও যুক্ত করা হবে।
এর ফলে নদীবেষ্টিত চর, উপকূলীয় এলাকা ও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূরের শহর বা মূল ভূখণ্ডে ছুটতে হবে না—এমন লক্ষ্য নিয়ে উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের পাশাপাশি দুর্যোগের সময়ও এসব ভাসমান চিকিৎসাকেন্দ্র কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, উপকূলীয় ও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পাওয়া দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব এলাকায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, নৌপথকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। জাহাজগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধা দিয়ে দ্রুত প্রস্তুত করার কাজে বিআইডব্লিউটিসি সহযোগিতা করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ নদী ও উপকূলীয় ভূপ্রকৃতির কারণে অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় স্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা কঠিন। সে ক্ষেত্রে নৌযানকে চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চিকিৎসাসেবা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে জাহাজ তিনটি কবে থেকে ভাসমান হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করবে, কোন কোন এলাকায় এগুলো চলাচল করবে এবং কীভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি এখনো জানানো হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অবকাঠামো ও সরঞ্জাম সংযোজনের কাজ পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।