এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে রাসায়নিক অস্ত্রবিরোধী সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা

উপস্থিত OPCW-এর নতুন মহাপরিচালক ও উপমহাপরিচালক

নেদারল্যান্ডসের হেগে বাংলাদেশ দূতাবাস এশীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাসায়নিক অস্ত্রবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করেছে। বৈঠকে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার নতুন মহাপরিচালক সাবরিনা দাল্লাফিওর মাত্তার এবং উপমহাপরিচালক মেকোন্দজো কাপান্দা-গিরনুস উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সংস্থাটির নতুন নেতৃত্বের অগ্রাধিকার নিয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সাবরিনা দাল্লাফিওর মাত্তা গত ২৭শে জুলাই রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন। তিনি সংস্থাটির পঞ্চম মহাপরিচালক এবং এই পদে দায়িত্ব নেওয়া প্রথম নারী। চার বছরের মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি রাসায়নিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ শক্তিশালী করা, সনদ মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে মেকোন্দজো কাপান্দা-গিরনুস গত ২৫শে জুলাই সংস্থাটির উপমহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন। তিনি এর আগে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে নামিবিয়ার রাষ্ট্রদূত ছিলেন। একই সময়ে তিনি রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থায় নামিবিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্বও পালন করেন।

রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদের বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৩। ২০২৩ সালে সংস্থাটি ঘোষণা করে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ঘোষিত সব রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত ধ্বংস করা হয়েছে। তবে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ, নতুন প্রযুক্তির প্রভাব এবং রাসায়নিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালের ২৫শে এপ্রিল রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদ অনুমোদন করে। একই বছরের ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশের জন্য সনদটি কার্যকর হয়। হেগে সংস্থাটিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাসায়নিক জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি, রাসায়নিক সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সহযোগিতা চলছে। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের এই মতবিনিময় সেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *