সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। সংগঠনটির দাবি, এভাবে সংস্কার পরিষদের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার অর্থ পরোক্ষভাবে গণঅভ্যুত্থানের বৈধতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা।
রোববার ২০শে সেপ্টেম্বর সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা বর্জন করে সংগঠনটি। এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর বিকেলে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার অর্থ হলো, যে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই দাবি তৈরি হয়েছে, তাকেই অবৈধ হিসেবে গণ্য করা।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে যে প্রতিষ্ঠান গঠনের বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেটিকে সংবিধানবিরোধী বলা সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তাঁর অভিযোগ, সরকার গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে। এটি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দেশে চলমান সামাজিক অস্থিরতা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর পেছনে রাজনৈতিক বিশ্বাসহীনতার বড় ভূমিকা রয়েছে। জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বারবার অপূর্ণ থাকা, প্রতিশ্রুত সংস্কার কাঠামো গঠনে দীর্ঘসূত্রতা এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে।
তাঁর মতে, রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি এই আস্থাহীনতা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার অন্যতম কারণ।
রাজনৈতিক আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারকে অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জনআকাঙ্ক্ষাকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন তিনটি দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দেওয়া থেকে সরকারকে সরে আসা এবং জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী অবিলম্বে পরিষদ গঠন করা।
এ ছাড়া সংস্কার পরিষদ গঠনের আগে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ চূড়ান্ত না করার দাবি জানানো হয়।
রাজনৈতিক আস্থা পুনরুদ্ধারে জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের একটি স্বচ্ছ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সহ-সভাপতি হাবীবুর রহমান রাজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল এবং নারী বিষয়ক সহ-সম্পাদিকা মনোয়ারা রহমান উপস্থিত ছিলেন।