চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ৪৮তম বিশ্বদক্ষতা প্রতিযোগিতায় দুটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কম্পিউটার সফটওয়্যার পরীক্ষণে বাংলাদেশ ১০ম এবং মুঠোফোনভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে ১৫তম হয়েছে। একই প্রতিযোগিতায় কম্পিউটার সফটওয়্যার পরীক্ষণে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিযোগী মাশফি রেজোয়ান সৈকত পেয়েছেন ‘বেষ্ট অব নেশন’ স্বীকৃতি।
সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় ৬৮টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। তাঁরা ৬৪টি দক্ষতা বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চার দিন ধরে চলে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৮ সেপ্টেম্বর এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
বাংলাদেশের হয়ে কম্পিউটার সফটওয়্যার পরীক্ষণ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাশফি রেজোয়ান সৈকত। তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাঁকে বাংলাদেশের ‘বেষ্ট অব নেশন’ প্রতিযোগী হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। পরে বিশ্বদক্ষতা আন্তর্জাতিকের সাধারণ সভায় সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের ভোটে তিনি চূড়ান্তভাবে এই স্বীকৃতির জন্য নির্বাচিত হন। সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতিটি দেওয়া হয়।
‘বেষ্ট অব নেশন’ স্বীকৃতির জন্য প্রতিটি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান তাঁদের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই নির্বাচন করেন। এরপর বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে সদস্য দেশগুলোর ভোটে চূড়ান্ত নির্বাচন হয়।
এবারের আসরে কম্পিউটার সফটওয়্যার পরীক্ষণ ও মুঠোফোনভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন—দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠে এসেছে। বিশ্বদক্ষতা আন্তর্জাতিকের তথ্য অনুযায়ী, সাংহাইয়ের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দক্ষতা বিষয়ে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদকের পাশাপাশি বিশ্বমানের দক্ষতা প্রদর্শনকারী প্রতিযোগীদের জন্য বিশেষ স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার বাইরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ২০২৮ সালের জাপান বিশ্বদক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জোরদারের বিষয় উঠে আসে।
সাংহাইয়ের এই প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের তরুণ দক্ষতাকর্মীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের আরেকটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। বিশেষ করে কম্পিউটার সফটওয়্যার পরীক্ষণে ১০ম স্থান এবং মুঠোফোনভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে ১৫তম স্থান অর্জন দেশের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে।