রুয়েটের তিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পেল পূর্ণাঙ্গ বিএইটিই অ্যাক্রেডিটেশন

রুয়েটের তিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বিএইটিই অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়ার তথ্য

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) যন্ত্রকৌশল, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক শিক্ষা কার্যক্রম বাংলাদেশ বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বিএইটিই) থেকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে।

সর্বোচ্চ ছয় বছরের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাক্রেডিটেশনের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ তিন বছর পর বিভাগগুলোর কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএইটিইর পর্যবেক্ষক দল রুয়েটের তিন বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে। এর মধ্যে ছিল ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা, পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের গবেষণা কার্যক্রম, শিক্ষায় নির্ধারিত ফলাফলভিত্তিক পদ্ধতির বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবেশ।

পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের পর সংশ্লিষ্ট খাতভিত্তিক কমিটির বৈঠকে তিন বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাক্রেডিটেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই স্বীকৃতির ফলে রুয়েটের যন্ত্রকৌশল, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক শিক্ষা কার্যক্রম প্রকৌশল শিক্ষার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি পেল।

এর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে ২০২৪ সালে বিএইটিই আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যালায়েন্সের ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ার পর। ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড প্রকৌশল শিক্ষার মান ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সমঝোতার কাঠামো।

এই কাঠামোর আওতায় স্বীকৃত প্রকৌশল শিক্ষা কার্যক্রমের সনদ অন্যান্য সদস্য দেশেও তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। ফলে রুয়েটের এই তিন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা সদস্য দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে তাদের প্রকৌশল ডিগ্রির স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারেন।

এর পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রেও এ স্বীকৃতি সহায়ক হতে পারে।

তিন বিভাগের এই অর্জনে রুয়েট প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যাক্রেডিটেশন রুয়েটের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভাগগুলোকে উৎসাহিত করবে।

আরো পড়ুন : জাপানের ৮ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *