ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানের আটটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিভিত্তিক ইন্টার্নশিপ ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে একটি অন-ক্যাম্পাস ক্যারিয়ার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ই অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘গ্লোবাল সাউথ-জাপান টেক ট্যালেন্ট ইন্টার্নশিপ’ (জিএস-জেটিআই) কর্মসূচির আওতায় এ আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা জাপানি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (এমইটিআই) জিএস-জেটিআই সচিবালয়, ডেলয়েট তোহমাতসু ভেঞ্চার সাপোর্ট এবং কোয়েই রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের সহায়তায় কর্মসূচিটি আয়োজন করে। এর লক্ষ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রযুক্তি-দক্ষ তরুণদের সঙ্গে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির স্বাগত বক্তব্য দেন। জিএস-জেটিআই সচিবালয়ের তাতসুয়া ইয়ামাদা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক এবং জাপানে কাজের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জাপানের আটটি প্রতিষ্ঠান হলো—অ্যাডোরো ইনকর্পোরেটেড, এ-ওয়ান রোড কোং লিমিটেড, অ্যাস্টার কোং লিমিটেড, এডব্লিউএল ইনকর্পোরেটেড, ক্যাপার ইনকর্পোরেটেড, গ্রিন কার্বন ইনকর্পোরেটেড, জাপান সুপারকন্ডাক্টিভিটি অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইনকর্পোরেটেড এবং নোয়াহলজি কোং লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের ক্ষেত্রও ছিল ভিন্ন ভিন্ন। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, দুর্যোগ সহনশীলতা, এজ এআই ও কম্পিউটার ভিশন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) প্ল্যাটফর্ম, কার্বন প্রকল্প ও টেকসই উন্নয়ন, সুপারকন্ডাক্টিং প্রযুক্তি এবং জাহাজ নির্মাণে এআইয়ের ব্যবহার।
ক্যারিয়ার ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ইন্টার্নশিপের দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং আবেদনের শর্ত সম্পর্কে জানতে পারেন। একই সঙ্গে জাপানি কর্মপরিবেশ ও প্রযুক্তি খাতের কাজের ধরন সম্পর্কেও ধারণা পান।
আয়োজকদের মতে, ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব শিল্পপ্রকল্পে প্রয়োগ করার সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি পেশাগত যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে কাজ এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।
অংশগ্রহণকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ইন্টার্নশিপে ভালো ফলাফল করা বা প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেখাতে পারা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের সুযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগপ্রক্রিয়া ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।
কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রোগ্রামিং, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা ও প্রকৌশল দক্ষতার সম্ভাবনা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের প্রকল্প ও নতুন ধারণা সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে। তাদের মতে, বাংলাদেশি প্রযুক্তি-প্রতিভাদের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে পণ্য উন্নয়ন এবং নতুন বাজার সম্পর্কে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণাও বিস্তৃত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দেয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইন্টার্নশিপ, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এমন সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রযুক্তি খাতের কাজের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যজ্ঞানকে বাস্তব প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।