কানাডার উন্নয়ন কর্মকর্তার আইসিডিডিআর,বির হাসপাতাল ও গবেষণাগার পরিদর্শন

আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব দলের সঙ্গে সামান্থা ডিগনাম

বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিদর্শন করেছেন কানাডার বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রথম সচিব সামান্থা ডিগনাম।

সম্প্রতি তিনি ঢাকায় আইসিডিডিআর,বির হাসপাতালে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় কানাডার বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন উপদেষ্টা ফারজানা সুলতানা।

পরিদর্শনের শুরুতে সামান্থা ডিগনাম হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার সেবা কেন্দ্র, স্তন্যপান পরামর্শকেন্দ্র, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র এবং পুষ্টি পুনর্বাসন ইউনিট ঘুরে দেখেন। আইসিডিডিআর,বির ক্লিনিক্যাল ও রোগ নির্ণয় সেবার প্রধান ডা. মো. ফজলুল কবির এবং হাসপাতালের প্রধান ডা. এম জাকিরুল করিম তাঁকে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে অবহিত করেন।

স্তন্যপান পরামর্শকেন্দ্রে পরামর্শদাতারা মায়েদের স্তন্যপান এবং পুনরায় স্তন্যদান শুরু করার ক্ষেত্রে দেওয়া সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

আইসিডিডিআর,বির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. সায়েদা হক সামান্থা ডিগনামকে হাসপাতালের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার কার্যক্রম সম্পর্কে জানান। শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের মায়েদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও এ কার্যক্রমের আওতায় দেওয়া হয়।

পুষ্টি পুনর্বাসন ইউনিটে আইসিডিডিআর,বির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. শারিকা নুজহাত শিশুদের তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, পরিকল্পিত খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক শিশু দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিভিন্ন খাবার ও উপাদানের যথাযথ সমন্বয় করা হয়। পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বির উদ্ভাবিত তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা খাদ্যও ব্যবহার করা হয়।

আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতি সামান্থা ডিগনামকে শিশুদের তীব্র নিউমোনিয়া ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের বুদবুদ পদ্ধতির শ্বাস-সহায়ক যন্ত্র সম্পর্কে জানান। বাংলাদেশ ছাড়াও ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও মালাউইয়ে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সময় হাম-সম্পর্কিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তাঁকে জানানো হয়।

এরপর সামান্থা ডিগনাম আইসিডিডিআর,বির জিনতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কেন্দ্রটির জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জুবায়ের ক্যানসার শনাক্তকরণ এবং উন্নত জৈব চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় কেন্দ্রটির ভূমিকা তুলে ধরেন।

তিনি শ্লেষ্মা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও টিকা গবেষণাগারও পরিদর্শন করেন। আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. ফিরদৌসী কাদরী সেখানে চলমান টিকা গবেষণা এবং বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরোধমূলক মুখে খাওয়ার কলেরা টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।

পরে সামান্থা ডিগনাম আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমীদ আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির ছয় দশকের বেশি সময়ের জীবনরক্ষাকারী গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা দেন।

এ সময় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে আইসিডিডিআর,বির গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরা হয়। এসব গবেষণা ও কার্যক্রমে কানাডা এবং দেশটির নাগরিকদের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়।

সামান্থা ডিগনাম এর আগে সেনেগালে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে এটিই তাঁর উপমহাদেশে প্রথম দায়িত্ব। তিনি বাংলাদেশে তাঁর সময় উপভোগ করছেন বলেও জানান।

আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, বাংলাদেশে এবং এর বাইরেও স্বাস্থ্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কানাডার বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *