যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরে বাংলাদেশি সমকালীন শিল্পকলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি উদ্যোগ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি শিল্পীদের আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে জাদুঘরটি ঢাকার সামদানি শিল্প ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব করেছে।
১৬৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত বিশ্বের প্রাচীনতম জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। নতুন এই উদ্যোগে প্রতিবছর একজন বাংলাদেশি শিল্পীকে অক্সফোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হবে। একই সঙ্গে জাদুঘরে সমকালীন বাংলাদেশি শিল্পকলার জন্য একটি পৃথক সংগ্রহ গড়ে তোলা হবে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো বড় আন্তর্জাতিক জাদুঘরের সঙ্গে বাংলাদেশি শিল্পীদের নিয়ে এ ধরনের ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়নি। এ কারণে উদ্যোগটিকে প্রথম এ ধরনের একটি প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের প্রথম আমন্ত্রিত শিল্পী বাংলাদেশের আলোকচিত্রী মুনেম ওয়াসিফ। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ঢাকা থেকে অক্সফোর্ডে পৌঁছান।
মুনেম ওয়াসিফের শিল্পকর্মে বাংলা অঞ্চলের ঔপনিবেশিক ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। তাঁর অনুসন্ধানের পরিসরে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল রয়েছে।
অক্সফোর্ডে কাজের সুযোগ সম্পর্কে মুনেম ওয়াসিফ বলেন, অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরে আসা তাঁকে ঔপনিবেশিক ইতিহাস আরও গভীরভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে। জাদুঘরের বিশাল সংগ্রহ ও সংরক্ষিত নথিপত্র তাঁর অনুসন্ধানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন নিদর্শন ও শিল্পকর্ম সরাসরি দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আলোকচিত্র, ছাপচিত্র ও বস্ত্রশিল্পের মাধ্যমে তিনি যে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছেন, সেসবের সঙ্গে জাদুঘরের সংগ্রহের সম্পর্কও তিনি অনুসন্ধান করতে চান।
অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরের ভারতীয়, হিমালয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় শিল্পকলার তত্ত্বাবধায়ক মালিকা কুম্বেরা ল্যান্ড্রাস এই অংশীদারত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর মতে, জাদুঘরে দক্ষিণ এশিয়ার অসাধারণ অনেক নিদর্শন রয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমকালীন বাংলাদেশি শিল্প ও শিল্পীদের কাজ যুক্ত হলে ওই অঞ্চলের ইতিহাসের বয়ান আরও সমৃদ্ধ হবে।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত সামদানি শিল্প ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি শিল্পী, স্থপতি, তত্ত্বাবধায়ক ও লেখকদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে।
ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নাদিয়া সামদানি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করা তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব সেই লক্ষ্য পূরণের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা।
বাংলাদেশি শিল্পীরা এর আগেও আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো জাদুঘরের সঙ্গে সমকালীন বাংলাদেশি শিল্পকলাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ধারাবাহিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অক্সফোর্ডের অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরে পৃথকভাবে বাংলাদেশি শিল্পকলার সংগ্রহ গড়ে ওঠার ফলে দেশের শিল্পীদের কাজ আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে আরও নিয়মিতভাবে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রতিবছর একজন করে শিল্পীর অংশগ্রহণও বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পচর্চার সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনের যোগাযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।