বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণে বড় বিনিয়োগ করতে চায় চীনের জুলং গ্রুপ

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান বেন ওয়াংয়ের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের বৈঠক

 

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের জুলং গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে আধুনিক নৌযান ও জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি উৎপাদিত জাহাজ বিদেশে রপ্তানি করতে চায়।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান বেন ওয়াং। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক নৌযান ও জাহাজ নির্মাণ করতে চায় তাঁর প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে উৎপাদিত জাহাজ প্রথমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি এসব জাহাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে।

জুলং গ্রুপের জাহাজ নির্মাণ কার্যক্রমের মধ্যে জলপথ ব্যবস্থাপনা ও খননকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের প্রকৌশল নৌযান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের জাহাজ নির্মাণ কারখানা আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসকারী প্রতিষ্ঠানের সনদও পেয়েছে।

বৈঠকে চীনা বিনিয়োগ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে চীনের বিনিয়োগের আগ্রহকে তিনি সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ এবং সেগুলো বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সামুদ্রিক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানও এ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যপথের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ ও রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

তবে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য জমি, অবকাঠামো, বন্দরসুবিধা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ জনবল এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *