জার্মানির ওসনাব্রুক শহরের ভক্সওয়াগেনের গাড়ি তৈরির কারখানাকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারখানাটিতে ইসরায়েলের রাফায়েল প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘আয়রন ডোম’সহ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কারখানাটির মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়ে ভক্সওয়াগেন, জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য এবং ইসরায়েলি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অরেলিয়াসের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অরেলিয়াস কারখানাটির সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নেবে। লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য থাকবে সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে।
ভক্সওয়াগেনের এই কারখানায় গাড়ি উৎপাদন ২০২৭ সালে বন্ধ হওয়ার কথা। এরপর কারখানাটিকে ধীরে ধীরে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের একটি শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রকল্প হিসেবে রাফায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও এর বিভিন্ন উপাদান উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের জন্যও তৈরি হতে পারে।
এর আগে কারখানাটি সরাসরি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের কাছে বিক্রির আলোচনা চলছিল। কিন্তু ভক্সওয়াগেনের অন্যতম বড় অংশীদার কাতারের আপত্তি সেই উদ্যোগকে জটিল করে তোলে। কাতারের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ ভক্সওয়াগেনের ভোটাধিকারসম্পন্ন প্রায় ১৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং প্রতিষ্ঠানটির তদারকি পর্ষদে তাদের দুটি আসন রয়েছে।
রাফায়েলের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতায় কাতারের আপত্তি থাকায় বিকল্প কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য ও অরেলিয়াসকে যুক্ত করে কারখানাটির মালিকানা পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে আসে। এর মাধ্যমে সরাসরি ভক্সওয়াগেন-রাফায়েল চুক্তির পরিবর্তে একটি নতুন মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
কারখানাটিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মী রয়েছেন। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের কর্মসংস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জার্মান সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। ৭ই সেপ্টেম্বর ভক্সওয়াগেন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিক্রির মূল কাঠামো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। চূড়ান্ত চুক্তি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পরই বিক্রয় কার্যকর হবে।
ফলে এটি কেবল একটি গাড়ির কারখানার মালিকানা পরিবর্তনের ঘটনা নয়। জার্মানির গাড়ি শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও কারখানা পুনর্গঠনের সঙ্গে ইউরোপের বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা চাহিদাকে যুক্ত করার একটি উদাহরণ হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।